By October 4, 2017 Read More →

প্রিয় চাকরীপ্রার্থী, ফেসবুকে শুধু সেলফি আপলোড বা চ্যাটিং নয়, নেটওয়ার্কিং-ও করুন

ফেসবুক – আলাদীনের এক আশ্চর্য প্রদীপ। একে দিয়ে আপনি করতে পারবেন না, এমন কিছু খুব কমই আছে। আপনি স্বীকার করুন আর নাই করুন, পছন্দ করুন আর নাই করুন, ফেসবুকই এখনকার জগতের সবচেয়ে বড় যোগাযোগের মাধ্যম, সবচেয়ে কার্যকর নেটওয়ার্কিং প্লাটফর্ম।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি, আমরা অনেকেই এই শক্তিশালী প্লাটফর্মটাকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারছিনা বা করছিনা। ফেসবুকে তরুনরা ব্যস্ত বিনোদন নিয়ে – চ্যাটিং, ইন্সটাগ্রাম, ভিডিও শেয়ারিং ইত্যাদি নিয়ে।

কিন্তু এসব ছাড়াও, যারা নতুন চাকরী খুঁজছেন, বা চাকরী বদল করতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য ফেসবুক হতে পারে একটি উপকারী প্লাটফর্ম। কিভাবে? আসুন জেনে নেয়া যাক।

১. প্রাইভেসি সেটিং ব্যাপারটা বুঝুন

প্রথমেই আপনাকে বুঝতে হবে ফেসবুকের প্রাইভেসি অপশনটি কিভাবে কাজ করে। আপনার প্রত্যেকটি পোস্টের ডানপাশে প্রাইভেসি সেটিং ঠিক করার একটি অপশন থাকে। আপনার এমন কোনো পোস্ট যেটা খুবই ব্যক্তিগত, সেগুলোর প্রাইভেসি সেটিংস “অনলি মি” করে দিন। আর সব প্রফেশনাল পোস্টের জন্য এটি হবে “এভরিওয়ান”।

২. প্রোফাইলটিকে প্রফেশনাল চেহারা দিন

এখন আপনার প্রোফাইলের “এবাউট” অপশনে যান। প্রোফাইলটিতে আপনার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড লিখুন। আপনার অভিজ্ঞতার কথাও লিখুন। কোথায় কোথায় কখন থেকে কখন কাজ করেছেন, ডেজিগনেশন সহ লিখুন। নতুন হলে অবশ্য দরকার হবে না এসবের। সেক্ষেত্রে কোনো ভলান্টারি অর্গানাইজেশনের সংগে জড়িত থাকলে তা-ই লিখুন। মোট কথা, কিছু একটা লিখুন, যাতে প্রোফাইলটা একটু হলেও প্রফেশনাল দেখায়।

আর হ্যাঁ, দোহাই লাগে, প্রোফাইল পিকচারটা যেন সেলফি না হয়।

৩. পেশাদার ও দায়িত্বশীল হোন

আপনি চাকরীরত এবং বর্তমান চাকরী পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন, যদি এমনটা হয়, তবে ভুল করেও আপনার বর্তমান অফিস ও কাজ সম্পর্কে কোন নেগেটিভ কথা স্ট্যাটাস হিসেবে শেয়ার করবেন না। আপনার বর্তমান কর্মস্থলে আপনি কতটা অসুখী, কিংবা আপনার বস কতটা খারাপ – এ ধরনের কথা লেখা অলমোস্ট প্রফেশনাল আত্মহত্যার সামিল।

৪. ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক তৈরী করুন

আপনার স্কুলের, কলেজের, ইউনিভার্সিটির ক্লাসমেট কিংবা বন্ধু অথবা সিনিয়রদের অ্যাড করুন। আপনার ঘনিষ্ট আত্মীয়স্বজনদেরও। এদের জানান আপনার প্রয়োজনের কথা। এদের কারো সাহায্যই আপনার সবচেয়ে কাজে লাগবে।

৫. প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক তৈরী করুন

আপনি যে সাবজেক্টে পড়েছেন, কিংবা যে শাখায় কাজ করেছেন, সেই বিষয়ের উপর প্রফেশনালদের ফলো করুন, পারলে ফ্রেন্ড বানান। ফেসবুকে বিভিন্ন প্রফেশনাল গ্রুপ আছে। পছন্দসই গ্রুপে জয়েন করুন। গ্রুপে কমেন্ট করুন, লাইক দিন, নিজের প্রফেশনাল মতামত প্রকাশ করুন, এতে করে নিজের পরিচিতি বাড়বে, গ্রহনযোগ্যতাও।

৬. নিজেকে সুন্দর ও রুচিশীল হিসেবে উপস্থাপন করুন

ফেসবুকে ভালো গঠনমূলক স্ট্যাটাস দিন। মনে রাখবেন, আপনি ব্রেকফাস্টে কি খেয়েছেন, কিংবা আপনাকে কালো সানগ্লাসে কেমন মানিয়েছে, এসব পোস্ট দিয়ে কোনো লাভ নেই – নো বডি কেয়ারস। এতে করে শুধু বালখিল্যতাই প্রকাশ পায়।

৭. গঠনমূলক স্ট্যাটাস দিন

গঠনমূলক কনটেন্ট শেয়ার করুন। ন্যাশনাল ইস্যুগুলোতে সুবিবেচনাপ্রসূত স্ট্যাটাস দিন। উস্কানীমূলক ও বিতর্কিত বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

৮. রিসার্চ করুন, চাকরী খোঁজায় সময় দিন

পড়ুন, পড়ুন, পড়ুন। এর কোনো বিকল্প নেই। জানার কি শেষ অাছে? না। যে বিষয়ে আপনি ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী, পুরো ইন্টারনেটে সেই বিষয়ে কোটি কোটি আর্টিকেল আছে। পড়ুন, শেয়ার করে অন্যদের জানার ব্যবস্থা করে দিন। এতে করে আপনার নিজের জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ হবে, আপনার প্রতি অন্যের ধারনা পজিটিভ হবে।

যেসব প্রফেশনাল গ্রুপে জয়েন করেছিলেন, দেখবেন বিভিন্নজন বিভিন্ন পদে লোক নেয়ার কথা বলছে। তাদেরকে নক করুন, সিভি দিন। তারা যখন আপনার প্রোফাইল ভিজিট করবে, কেউ না কেউ মুগ্ধ হবেই।

মনে রাখবেন, ফেসবুক অত্যন্ত কার্যকর একটি কমিউনিকেশন টুল। একে ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এর থেকে প্রফেশনাল লাইফে অনেক উপকৃত হওয়া যেতে পারে। শুধু দরকার একটু প্ল্যানিং, একটু ডেডিকেশন।

Comments

comments

About the Author:

মোঃ শরিফুল হাসান - মানবসম্পদ, প্রশাসন ও কমপ্লায়েন্স প্রফেশনাল, লেখক, পরামর্শক।

Comments are closed.

error: Content is protected !!